ঢাকা, শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬

বিভ্রান্তি ও হঠকারিতার রাজনীতি ছেড়ে দেশ গঠনে এগিয়ে আসুন: প্রধানমন্ত্রী

বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে বিভ্রান্তি ও হঠকারিতার রাজনীতি ছেড়ে জনগণের কল্যাণে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা নিয়ে দেশ গঠনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার রাজধানীর মহাখালীর টিঅ্যান্ডটি মাঠে মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন উপলক্ষে দুস্থ, অসহায় ও অসুস্থ মানুষের মাঝে চেক বিতরণ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিভ্রান্তির রাজনীতি স্বৈরাচার করে গেছে, মিথ্যার রাজনীতি স্বৈরাচার করে গেছে, ভাঙচুরের রাজনীতি স্বৈরাচার করে গেছে। আপনারা জনগণের সামনে প্রতিজ্ঞা করেছেন যে, জনগণের জন্য কাজ করবেন, দেশ গঠনের জন্য কাজ করবেন। কাজেই সেইসব বিভ্রান্তির রাজনীতি বাদ দেন, হঠকারিতার রাজনীতি বাদ দেন।’

রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা জনগণের সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের উপকারে আসে এমন পরিকল্পনা সংসদে এবং জনসম্মুখে উপস্থাপন করা উচিত। রাজপথে ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলার রাজনীতির দিন শেষ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, বিএনপির পরিকল্পনা রয়েছে কীভাবে আগামী ১০ বছরে দেশের জ্বালানি সমস্যার সমাধান করা যায়। আগামী ২৭ তারিখে সংসদ অধিবেশন শুরু হলে সেখানে সরকারের পরিকল্পনা জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে বলেও জানান তিনি।

বিরোধী দলগুলোর প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট সমাধানে কোনো রাজনৈতিক দলের ভালো পরিকল্পনা থাকলে তা সরকারের সামনে উপস্থাপন করতে পারে। তিন মাস নয়, ছয় মাসের মধ্যে কার্যকরভাবে সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হলে সরকার সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেবে বলেও তিনি জানান। আর জনগণকে বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে কোনো বক্তব্য দেওয়া হলে সংশ্লিষ্টদের জনগণের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সমালোচনার পরিবর্তে জনগণের জন্য কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, এমন কোনো কথা বা কাজ করা উচিত নয়, যার কারণে দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে। রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি সত্য ও বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা নিয়ে সংসদ ও জনগণের সামনে আসার আহ্বান জানান তিনি।

স্বাস্থ্যসেবা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের ৫০৩টি উপজেলার প্রত্যেকটি হাসপাতালকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে মা ও শিশুরা নিজ নিজ এলাকায় উন্নত চিকিৎসাসেবা পাবেন বলে তিনি জানান।

তিনি বলেন, অতীতে স্বাস্থ্যসেবাকে এমনভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হতো যে মানুষকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে হতো। বর্তমান সরকার জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে কাজ করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে শুধু শ্রমিকের হাত হিসেবে নয়, দক্ষ কর্মীর হাতে রূপান্তর করতে হবে। তাঁর ভাষায়, ‘আমি নিজে কী পেলাম সেটি বড় কথা নয়, আমি দেশ ও দেশের মানুষের জন্য কী করতে পারলাম—সেটিই বড় সার্থকতা।’

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও বেগম খালেদা জিয়ার দেশপ্রেমের পথ অনুসরণ করে বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে একটি সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

ads
ads
ads

Our Facebook Page